
আবার ইস্রায়েলি সেনাবাহিনির হুঁশিয়ারি -যখন -তখন ইচ্ছামত এলাকা ফাঁকা করার নির্দেশ দিয়ে দিচ্ছে -এবার এলো নবমতম নির্দেশ।সেই নির্দেশ শুনে আবারও পরে গেলো গাজাবাসির ছোটাছুটি ,আবার ও নতু করে আস্তানা খোঁজার তৎপরতা।যে অঞ্চল থেকে এই প্রতিবেদন দেওয়া হচ্ছে, সেটি এখন প্রায় ৮০,০০০ বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনির জন্য একটি নতুন ঠিকানা হয়ে উঠেছে।নতুন মাথা গোঁজার ঠাঁইয়ের সন্ধানে আতঙ্কিত ভিড়। এলাকায় আছে প্রায় ৮০,০০০ বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনির জরুরি আশ্রয়স্থল।
এই এলাকায় দুটি প্রধান সুবিধাসম্পন্ন স্থাপনা রয়েছে – বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ কমপ্লেক্স এবং UNRWA সদর দপ্তর – যেগুলোকে এখন আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত করা হয়েছে। তবে এই দুই কেন্দ্রই ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর টানা বোমাবর্ষণের শিকার হয়েছে। বেশিরভাগ ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে, আর মানুষ যেটুকু অক্ষত আছে, সেটার মধ্যেই কোনোমতে আশ্রয় নিচ্ছে।
এর পাশাপাশি, এই দুই স্থাপনার আশপাশে এবং সংযোগকারী মূল রাস্তাগুলোর উপরেও বহু মানুষ অস্থায়ী তাঁবু টানিয়ে বসবাস করছে।
প্রায় ৮০,০০০ মানুষ এখন গাজা শহরের মধ্যে আবার নতুন করে আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছে, কিন্তু পশ্চিম গাজার পুরো এলাকাটিই অতিরিক্ত জনাকীর্ণ হয়ে পড়েছে। এখন অনেকেই গাজা সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ছে।
এ এক চরম বিশৃঙ্খলা, ভয়ের ছবি। বারবার এইভাবে বাসস্থান সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশের কারণের পিছনে কি অন্য কোনও উদ্দেশ্য আছে কিনা সেটাও বোঝা যাচ্ছে না । কারণ কয়েক দিনের মধ্যেই হয়তো আবার নতুন কোনও জোরপূর্বক উচ্ছেদের নির্দেশ আসবে।তবু মানুষ বিপদের মাঝেও থেকে যাচ্ছে – কারণ ইসরায়েলি সেনাবাহিনী তাদের ও তাদের পরিবারের জন্য, বিশেষ করে শিশুদের জন্য, নিরাপদ কোনো বিকল্প পথ খোলা রাখেনি।
এই মুহূর্তে গাজার প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ বা তারও বেশি এলাকা ইস্রায়েলি সেনাবাহিনীর বোমাবর্ষণে জনশূন্য হয়ে পড়েছে ।হারিয়ে গেছে গাজার সেই সৌন্দর্য আর অনাবিল আনন্দের জয়ার।জেখানে একদিন ছিল এক স্বতঃস্ফূর্ত প্রানের স্পন্দন। এক একটা এলাকা প্রাণহীন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ফলে অনেক মানুষ এখন পশ্চিম অংশের এই ছোট্ট এলাকায় যা কিছু অবশিষ্ট আছে, সেখানেই কোনোমতে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছে।এই নিরন্তর আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এখন বিশ্বজুড়ে গর্জে উঠেছে প্রতিবাদের ঢেউ। সবাই বলছে — আর কত? যথেষ্ট হয়েছে! সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের নাম করে নিরীহ সাধারণ মানুষের প্রাণ কেন কেড়ে নেওয়া হবে?
