
ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরোতে অনুষ্ঠিত ১৭তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা হয়। মানবতার পরিপন্থী এই হুমকি রোধে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়ে, সদস্য রাষ্ট্রগুলো রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের রিও ডি জেনেইরো ঘোষণা’-তে ভারতের পাহেলগামে ২২ এপ্রিল ২০২৫-এ ঘটে যাওয়া সাধারণ ও বিদেশি নাগরিক নিহত সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয় এবং নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামোগত সংস্কারের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
সমস্থ দেশ একই সুরে বলে উঠেছে
“আমরা ২২ এপ্রিল ২০২৫-এ জম্মু ও কাশ্মীরে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার তীব্রতম ভাষায় নিন্দা জানাই।”
ব্রিকস সদস্য রাষ্ট্রগুলোর নেতারা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সর্বাঙ্গীণ লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি আবারও দৃঢ়ভাবে প্রকাশ করেন। এই প্রতিশ্রুতি অন্তর্ভুক্ত করে সীমান্ত পেরিয়ে পরিচালিত সন্ত্রাসবাদ, সন্ত্রাসে অর্থ জোগান এবং জঙ্গিদের আশ্রয়স্থল দেওয়ার মতো বিষয়।
সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কোনও রকম সহনশীলতা না দেখানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে এবং এই বৈশ্বিক হুমকি দমনে প্রতিটি দেশকে কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
ব্রিকস নেতারা দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা ‘আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবিরোধী বিস্তৃত চুক্তি’ (Comprehensive Convention on International Terrorism) দ্রুত গ্রহণ করার পক্ষে মত দেন। একই সঙ্গে, জাতিসংঘ-স্বীকৃত সন্ত্রাসবাদী ও জঙ্গি সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে সমন্বিত বৈশ্বিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারের উপর বিশেষ গুরুত্ব
সন্ত্রাসবাদ দমনে ব্রিকস নেতারা তাদের দেশের শাসন ব্যবস্থার সাথে প্রজুক্তিগত উন্নয়নকেও কাজে লাগানোর কথা উল্লেখ করেন ও পাশাপাশি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের (UNSC) যুগোপযোগী সিদ্ধান্তকে সময়োপযোগী এবং প্রয়োজনীয় বলে মনে করেন।
সকলে বলেছেন যে –
“আমরা আবারও আমাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করছি—জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন, যাতে তা আরও গণতান্ত্রিক, প্রতিনিধিত্বমূলক, কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক হয়।”
আগত নেতারা বলেন সংস্কারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দক্ষিন ও পার্শ্ববর্তী দেশগুলো আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।
বিশেষভাবে, ভারত ও ব্রাজিলের জাতিসংঘে আরও বড় ভূমিকা নেওয়ার আকাঙ্ক্ষা-র প্রতি সমর্থন জানানো হয়। তারা মনে করেন, এই দুই দেশ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যেভাবে প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে, তাতে তাদের নিরাপত্তা পরিষদে কার্যকর ভূমিকা থাকা উচিত।
শেষে এটাই বলা হয়েছে যে এই সংস্কারের জন্য বর্তমান পৃথিবীর বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিরাপত্তা পরিষদ আরও বড় পদক্ষেপ নিতে পারবে ও একই সঙ্গে বাকি উন্নয়নশীল দেশগুলোর সাথে কাজ করা আরও সহজ হবে।
এই সম্মেলনের মাধ্যমে ব্রিকস দেশগুলি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে একজোট হওয়ার বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি, জাতিসংঘের কাঠামোয় প্রকৃত পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে আরও একবার জোরালোভাবে তুলে ধরল।
