
বিহারে চলমান ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া করা যাবে না এবং এটা করতেও দেওয়া হবে না -এমন ই দাবি জানিয়েছে বিরোধী INDIA জোট। তাদের অভিযোগ, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের মুখে বিজেপি সরকার তাদের ক্ষমতাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে গণতান্ত্রিক অধিকার কে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। জোটের মতে, এই সংশোধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার অভাব রয়েছে, যা নির্বাচন ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে ফেলছে।
সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে জোটের নেতারা এই সংশোধন প্রক্রিয়াকে অনৈতিক ও পক্ষপাতদুষ্ট বলে অভিহিত করেন। তারা অভিযোগ করেন, কেন্দ্র সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর প্রভাব বিস্তার করছে। জোট জানিয়েছে, এমন পদক্ষেপে তারা মানে না এবং এর বিরুদ্ধে তারা প্রতিবাদ চালিয়ে যাবে।
এই প্রতিবাদের অংশ হিসেবে, আজ – ৯ জুলাই ‘ভারত বন্ধ’ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। এতে কেন্দ্রের কাছে পরিষ্কার বার্তা পাঠানো হবে যে, বিহারের জনগণ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার লঙ্ঘন মেনে নেবে না। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ওই দিন পাটনায় প্রতিবাদ সমাবেশ ও পদযাত্রায় অংশগ্রহণ করবেন।
বিহার বিধানসভার বিরোধী নেতা তেজস্বী যাদব নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনাকে বিভ্রান্তিকর বলে মন্তব্য করেন। তিনি জানান, একদিনেই তিনটি ভিন্ন নির্দেশিকা জারি হয়েছে, যা ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অনাস্থা সৃষ্টি করেছে।
তেজস্বী যাদব জানান, ৫ জুলাই তারা নির্বাচন কমিশনের পাটনা অফিসে গিয়ে সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তবে এখনও পর্যন্ত কমিশনের পক্ষ থেকে কোনও জবাব পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, এই নিরুত্তরতা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। তাঁর মতে, সংশোধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং তথ্যের স্পষ্টতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও জানান, ভোটারদের জন্য স্পষ্ট ও বিশদ বিজ্ঞপ্তি এবং প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা দরকার, শুধুমাত্র সামাজিক মাধ্যমে বা সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিয়ে ভোটারদের সমস্যার সমাধান হয় না।
এই মন্তব্যের সঙ্গে একমত জানিয়ে বিহার কংগ্রেস সভাপতি রাজেশ রাম জানান, যে তারা নিশ্চিত যে ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসাররা (ERO) তাদের অতিরিক্ত ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে, তা একতরফা সিদ্ধান্ত গ্রহন ও মানুষের অধিকার কেড়ে নেবে ।
ভিকাশশীল ইনসান পার্টির (VIP) নেতা মুকেশ সাহনি অভিযোগ করেন, ভোটারদের মধ্যে অযথা আতঙ্ক তৈরি করছে নির্বাচন কমিশন। তাঁর দাবি, বুথ লেভেল অফিসাররা (BLO) অপ্রতুল সময়সীমার চাপে ভুগছেন এবং সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহে হিমশিম খাচ্ছেন। তিনি বলেন, বিহার সরকার এই সমস্যার প্রতি উদাসীন।
কমিউনিস্ট পার্টির (CPI) নেতা কমরেড রামবাবু বলেন, এই ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যক্রম প্রশাসনিক কাজের ছদ্মবেশে একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ। তিনি জানান, INDIA জোট এই অপচেষ্টার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে যাবে, কারণ এটি মোদি সরকারের সাংবিধানিক নিয়মকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করার চেষ্টা।
